বিশ্বের সর্বোচ্চতম পক্ষী ভাস্কর্য (২০০ফুট), তৈরী করতে সময় লেগেছে ১০ বছর

Updated: Aug 23, 2020

আপনি যদি ভ্রমণকারীদের প্রশ্ন করেন, “কোন কোন দেশে আপনি ভ্রমণ করেছেন?”; অবশ্যই প্রত্যেকের উত্তরের মধ্যে ভারত ভ্রমণের খোঁজ পাবেন। অসাধারণ রন্ধনপ্রণালী থেকে ইতিহাস-সংস্কৃতি এবং পবিত্র মন্দিরগুলির তালিকা, যা কাগজে লিখে বা মুখে বলে শেষ করা যাবে না। ঐন্দ্রজালিক দেশে যাওয়ার অনেকগুলি কারণের মধ্যে একটি হল মনোমুগ্ধকর এবং আশ্চর্য একটি বৃহদাকার ঈগল মূর্তি। পুরাতন পৌরাণিক কাহিনীকে ফিরিয়ে আনার প্রয়াস করেছেন বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা রাজীব আঁঞ্চল।

ভারতীয় শিল্পী রাজীব আঁঞ্চলের ১০ বছর কঠোর পরিশ্রমের পর এই অনন্য ল্যান্ডমার্কটি জনগ্ণের সামনে আত্মপ্রকাশ করে। কেরলে অবস্থিত ‘জটায়ু আর্থ সেন্টার’ ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে এখন আবশ্যিক এক গন্তব্য। এটি বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম পক্ষী ভাস্কর্য।


অপূর্ব এই ভাস্কর্যটি হিন্দু মহাকাব্য রামায়ণের প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে। রামায়ণ মহাকাব্য সংস্কৃত ভাষায় রচিত। দেবী সীতাকে রাবণের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য জটায়ু নামের বিশালাকার একটি ঈগল পাখি প্রাণপণ লড়াই করে। কেরালার কোললাম জেলার চাদায়ামঙ্গলম গ্রামের বাসিন্দারা বহু বছর ধরে এই গল্পটি শুনে আসছেন, যেটি শিল্পী তার সৃজনশৈলীর মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন।


আপনি যদি কখনও এই স্থানটিতে বেড়াতে যান তবে এই ভাস্কর্যটির পাশাপাশি রক ক্লাইম্বিং, র‍্যাপ্লিং, পেন্টবল এবং রাইফেল শুটিংও উপভোগ করতে পারবেন। এছারা কাছেই রয়েছে একটি আয়ুর্বেদিক রিসর্ট ও একটি যাদুঘর।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই পক্ষী ভাস্কর্যটি ২০০ ফুট পর্যন্ত প্রসারিত এবং জয়তু টাওয়ারের ১০০০ ফুট উপরে নির্মিত। ১৯৮০ এর দশকে ফাইন আর্ট কলেজে পড়ার সময় শিল্পী রাজীব আঁঞ্চল এই মডেলটি নিয়ে ডিপার্টমেন্ট অব টুরিজমের কাছে এটি উপস্থাপন করেছিলেন। শিল্পীর মতে, “এটি কেবলমাত্র একটি ধর্মীয় ভাস্কর্য নয়, জটায়ু একজন মহিলার সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে মারা গিয়েছিল এবং মূর্তিটি তার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সকল ধর্মের মানুষ এটি দেখতে আসেন। ধর্মের খোঁজে যারা আসবেন, এর বাইরে পুরানো মন্দির আছে, সেখানে যেতে পারেন।''



7 views0 comments
  • download (8)

Copyright © KolkataPanda.com. All rights reserved.