মাস্টারমশাই- সুস্মিতা দে হাজরা

কলকাতায় আসার পর অবিলম্বে একটা চাকরি জুটে গেল। অমলেন্দু অবশ্য আগেই ব্যবস্থা করে রেখেছিল। আমাকে শুধু একবার তার সাথে সেথায় যেতে হল। ব্যাস চাকরি হয়ে গেল। হাওড়ায় কালীতলা নামে এক ঘনবসতি এলাকায় একটা বাসাও ঠিক করে দিয়েছে অমলেন্দু। সকাল ছটায় বাসা থেকে বের হই। যেতে হয় কোলকাতার গড়িয়া নামে এক এলাকায়। প্রথমে বাস, তারপর খানিক পায়ে হেঁটে পৌঁছাতে হয় গন্তব্যে।


এক বড় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে দারোয়ানের চাকরী। মন্দ নয়। এই বয়েসে আর কিই বা পাওয়া যেত। তবু অমলেন্দু ছিল তাই এ চাকরী জুটলো। প্রথমটা সুধা খুব কাঁদলো। বিদেশ-বিভুঁয়ে হাঁপ ধরা একটা এক কামরার বদ্ধ ঘরে একা একা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাটাতে তার ভারী কষ্ট হতো। বীরভূমের লাল মাটি, উজার করা প্রকৃতি আর মেঠো মানুষগুলোর সরলতা তার বোধহয় খুব বেশী করে মনে পড়তো।


আমি তাকে অনবরত বুঝিয়েছি। এই ভালো। এই যান্ত্রিক জীবনই আমাদের আপন করে নিতে হবে। অন্তত যতদিন আমাদের ভদ্রভাবে বেঁচে থাকার অবস্থা থাকবে। কারণ আমার হাত-পাগুলো অকেজো হয়ে গেলে আরো কি দূর্দশায় পড়বো তা তো আর জানা নেই।


আমার এই অমোঘ সত্য ভবিষ্যত নির্দেশ সুধাকে আশঙ্কিত করলো। আর তার সাথে শান্তও করলো। আমাদের জন্য আর কি কি দুর্দশা বরাদ্দ আছে সেটার আশঙ্কায় সুধা অতীতের মহাসুখকে স্মৃতির কুঠুরিতে আপাতত বন্দি রাখল। আর শুরু করলো অনাগত কালের চিন্তন।


কিন্তু আমি বেশ ভালো আছি। সকালবেলার তাড়াহুড়াটা সহ্য হয়না সত্য। চিরকাল তো ১০টা ৫টা চাকরীই করেছি। কিন্তু ওটুকু বাদ দিলে ভালোই কাটে সারাটা দিন। বড় পেল্লাই গেটের পাশে টুল পেতে বসে থাকা। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের আসাযাওয়া লক্ষ্য করা। স্কুল ছুটির পর তারা ঠিকঠাকভাবে অভিভাবকের হাতে পৌঁছালো কিনা সেই দিকে সজাগ নজর রাখতে হয়। এব্যাপারে আমাদের ডিপার্টমেন্টের যে মাথা সেই সুকুমারই আমাকে বুঝিয়েছে কিভাবে সবদিকে নজর রেখে চলতে হবে।


খুব একটা সমস্যা হলনা কাজ খানা বুঝে নিতে। একমাস এইভাবে কাটলো থিতু হতে হতে। পেট চালানোর প্রাথমিক সমস্যাটা মিটলে শুরু হল অন্য সমস্যা। পেটের খিদে তো মিটলো। কিন্তু মনের খিদে তার জায়গা নিলে!


ছোট ছোট ছেলেমেয়ের দল। সকালবেলায় তারা হৈ হৈ করতে করতে স্কুলে ঢোকে। তাদের দেখে বাৎসল্য জাগে মনে। কাছে গিয়েও কাছে যাই না খুব একটা। আমি তাদের সিকিউরিটি দাদু যে! নামজাদা স্কুলের সিকিউরিটি দাদু।


তাদের সাথে খুব বেশি মেলামেশা যে ঠিক হবে না সুকুমার তা আমাকে কড়া ভাষায় বুঝিয়েছে। এইসব স্কুলে খুব বেশী ডিসিপ্লিনের বালাই। আমরা পাড়াগেঁয়েরা তার কি বুঝবো?


এইভাবেই কাটছে দিনগুলো। সুধা এই ঘিঞ্জি যান্ত্রিক তালে চলা বসতিতেও জুটিয়েছে কিছু কথা বলার সঙ্গী। তারা ওকে মাসীমা ডাকে। কোনোদিন আমার সামনাসামনি হলে আমাকেও মেসোমশাই ডেকে দুচারটে মিষ্ট কথা বলেই থাকে। কিন্তু তাদের এই সম্ভাষণে আমার দীর্ঘনিঃশ্বাস পড়ে। চিরকাল শুনে আসা সম্ভাষণটা আমার তাহলে হারিয়েই গেল! সুধারও দৃষ্টি এড়ায়না আমার এই দীর্ঘশ্বাস। সেও অলক্ষ্যে চোখের জল ফেলে। আমি তা অনুভব করেছি।


স্নেহ বাৎসল্য বড় ছোঁয়াচে। কারণ বাচ্চাগুলোর থেকে দূরে থাকতে চেয়েও পারিনা। তারাও নানা অজুহাতে আমার আসেপাশে ঘোরে। গেটের অন্য দারোয়ানেরা তাদের আবার ক্লাসে পাঠায় আর আমাকে সাবধান করে যাতে স্কুলের ডিসিপ্লিন না ভাঙি।


এদেরই মধ্যে একটি ছেলে আছে। ক্লাস ফাইভে পড়ে। তাকে দেখে অতীতের একটা চেনামুখের ছবি মনে ভেষে ওঠে। স্নেহের রসে সিক্ত হতে হতে নিজেকে সামাল দিই। এ আমার চেনা পরিসর নয়। এই জীবনে আমাকে শুধু খাপ খাওয়াতে হবে। এখানে নিজেকে উজাড় করার অবকাশ নাই। কিন্তু যতই মনকে বজ্র মুষ্টিতে চেপে ধরি ততই সে চেনা জীবনের গন্ধে উতলা হয়। নাহ্, স্কুলের চাকরীটা নেওয়া আমার হয়তো উচিত হয়নি। এর থেকে কোনও অন্য কোথাও দারোয়ানগিড়ি করলেও হত। কিন্তু অমলেন্দুকে কি করে বলি আরেকটা চাকরী জুটিয়ে দিতে? কিই বা অজুহাত দিই।


বর্ষাকালের একদিন। সেই ক্লাস ফাইভের ছেলেটি। তার নাম দিব্যরূপ। কোনও এক কারণে তাদেরই ক্লাসরুমের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলুম। সেদিন ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি কম। জানলা দিয়ে দেখি দিব্যরূপ খাতার উপর ঝুঁকে একমনে কি যেন করছে। কৌতূহলে জানলার কাছে গিয়ে দেখি অঙ্ক নিয়ে বসে আছে সে। চোখেমুখে বিরক্তি।


টিফিনের সময় সেটা। সব বাচ্চারা টিফিন খেতে ব্যাস্ত। গুটি গুটি পায়ে ক্লাসরুমে ঢুকে দিব্যরূপের পাশে দাঁড়ালাম। সচকিতে সে মুখ তুলে দেখে একমুখ হাসল। কয়েকটা কঠিন অঙ্ক নিয়ে ব্যাস্ত সে। টিফিনের পরের ক্লাসটা অঙ্কেরই। কিন্তু এই কটা সে কিছুতেই সমাধান করতে পারছে না। দিদিমণি ম্যাম বার বার বুঝিয়ে দেওয়ার পরও পাচ্ছে না। আজ নিশ্চয় বকা খাবে। তাই সে টিফিন না খেয়েই অঙ্ক কষে যাচ্ছে।


স্বভাবসিদ্ধভাবেই খাতাটা তুলে নিলাম। তাকে বুঝিয়ে দিলাম অঙ্ক কখান। সহজ সমাধান পেয়ে সে আরো অঙ্ক নিয়ে পড়লো। সেগুলোও কষে দিলুম। মহাখুশি সে। কিন্তু তারপরেই বিপদ ঘটল। কখন যে টিফিন শেষ হয়ে গিয়েছিল সে খেয়াল করিনি। আমি তখনও অঙ্কখাতা হাতে দাঁড়িয়ে। দিব্যরূপের জবরদস্তিতে তার রাফ ম্যাথ কপিতে আমি নিজের নাম সই করে দিচ্ছিলুম। হঠাৎ সমস্ত ক্লাসরুম একদম চুপ। দরজায় দাঁড়িয়ে সেই অঙ্কের দিদিমণি!


তার রুদ্রমুর্তির সামনে পড়ে আমি বিব্রত হয়ে পড়লাম। ক্লাসের সব বাচ্চাগুলো আমার দিকে তাকিয়ে। এমন অবস্থায় আমাকে কোন ছোটবড় কথা বললে আমি আর তা নিতে পারবো না। তাই সে কিছু বলার আগে আমি চুপচাপ পাশ কাটিয়ে নিজের নির্ধারিত টুলে গিয়ে বসলাম। বাকী দিনটা গুম মেরে টুলে বসেই কেটে গেল। কখন অফিস থেকে আমাকে ডেকে পাঠায় সেই অপেক্ষায়।


কিন্তু ডাক আসলো না। তবুও আমার মনে শান্তি হলনা। সেই অঙ্কের দিদিমণির মুখ বারবার মনে পড়তে লাগলো বাড়ি ফেরার সময় বাসে বসে। একটা একরত্তি মেয়েও আজ আমাকে অঙ্ক কষে দেবার অপরাধে চোখ রাঙাতে পারে! সারা জীবনে যা করেছি তাতে এই কি আমার প্রাপ্য? বাড়িতে ফিরেও আমার অস্থির চিত্ত শান্ত করতে পারলাম না। সুধা বারেবারে জিগালো। কিন্তু তাকে কি করে বলি আমার আজকের হাল! সে তো কেঁদে ভাসাবে। আমি তার সুখের দিনের অহংকার ছিলাম। আজ দুঃখের দিনে আমার এই অপমান আমি মেনে নিলেও সে কত কষ্ট পাবে তা আমি বিলক্ষণ জানি।


পরের দিন স্কুল যাওয়ার ইচ্ছা না থাকলেও শুধু সুধার চোখে ধরা দেব না বলে স্কুলের পথ ধরলাম। অন্যদিনের চেয়ে কিছু দেরী হয়ে যাওয়ার কারণে বাস থেকে নেমে পা চালালাম। পোষাক পরিবর্তন করে দারোয়ানের পোষাক ধারণ করতে গেলে সুকুমার বলে গেল সেটা করার দরকার নেই। কারণ প্রিন্সিপ্যাল মহাশয়া তার কেবিনে আমাকে ডেকেছেন।


আর বুঝতে কিছু বাকী রইলো না। এ চাকরী আমার আর নেই। আজ থেকে আবার আমি বেকার। কিন্তু তবুও এই ক্লান্ত মন নিয়ে আর একপ্রস্থ তিরস্কার শোনার ইচ্ছা আমার আজ নেই। ধীর পায়ে তাই সকলেই অলক্ষ্যে স্কুল গেট দিয়ে বেড়িয়ে এলাম। বড় বড় গাছের ছায়া পড়া বিস্তৃত রাস্তাটা দিয়ে বাস রাস্তার উদ্দেশ্যে চলেছি। আর ভাবছি এপর্যন্ত আমার কর্মজীবনটার গতিপ্রকৃতি। সেটা মহানদী হয়ে বওয়া শুরু করলেও খোয়াই এর মতোই শুধুই আজ গভীর শুষ্ক খাদ। সেখানে কোনও জলের সরসতার চিহ্নমাত্র নেই।


এসব চিন্তার মধ্যিখানেই কোন সুদূরের সুখস্মৃতির রেশের মতোই যেন ‘মাস্টারমশাই’ ডাকটা কানে এসে পৌঁছালো। পাদুটো আপনাআপনিই থেমে গেল। কিন্তু পিছন ফিরে তাকিয়ে কাউকে তো দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এ তো আমার মনের ডাক। যে মনটাকে অনির্দিষ্টকালীন বনবাসে পাঠিয়েছিলাম এ তারই ডাক।


দাঁড়িয়ে আছি আমি। রাস্তার একদম মাঝে। পিছনে একটা গাড়ি এসে থেমেছে। কিন্তু সেটা খেয়াল করিনি। খুব কাছে কেউ ‘মাস্টারমশাই’ বলে আবার ডাকতে সম্বিৎ ফিরলো। প্রিন্সিপ্যাল ম্যাডাম! আমি দেখা করে আসিনি বলে এতদূর এলেন? ভেবেছিলাম পাওনাগণ্ডা নিতে অন্য একদিন আসবো। টাকাটাতো আমার বিশেষ দরকার। সেদিনই তার তিরস্কার শুনে নেব না হয় মুখবুজে। কিন্তু আজ আর তা পারবো না। তাই না দেখা করেই চলে এসেছি।


‘’মাস্টারমশাই আপনি দেখা না করেই চলে আসছিলেন?’’


“মাস্টারমশাই!” আমি চকিতে মুখ তুললাম। এই সম্ভাষণ কেন?


আমার মনের প্রশ্ন অনুধাবন করেই প্রিন্সিপ্যাল মহাশয়া বললেন,”আমি কি করে জানলাম তাই ভাবছেন তো? কাল সুচন্দ্রা আমার কাছে আপনার নালিশ করতে গিয়ে দিব্যরূপের খাতাটাও নিয়ে গিয়েছিল। সেখানেই আপনার সই দেখে আমার সন্দেহ হল। আপনি জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষক অনিরুদ্ধ ব্যানার্জী কিনা? তারপর খোঁজ করে জানলাম আপনিই সেই। বীরভূমের নিত্যানন্দপুরের বেসরকারি স্কুলটা থেকে সম্প্রতি আপনি অবসর নিয়েছেন তাও জানলাম। কিন্তু এরপরের খোঁজ কেউ দিতে পারলো না।”

আমি আনত মুখে দাঁড়িয়েই রইলাম। প্রিন্সিপ্যাল মহাশয়ার এই জানার মধ্যে একটা ভুল রয়ে গেছে। নিত্যানন্দপুরের স্কুল থেকে আমি অবসর নিইনি। বাধ্য হয়েছি সেই চাকুরী ছাড়তে। চিরকাল ছিলাম মানুষ গড়ার কারিগর। আমার ছাত্রছাত্রিরা আজ অনেক উঁচুতে পৌঁছেছে। গর্বে আমার বুক ভরে থাকতো সেই তৃপ্তিতে। সংসারে আমি আর সুধা। ছাত্রছাত্রীরাই আমাদের সন্তানসন্ততি। এর থেকে বেশি কোনদিনই কিছু ভাবিনি। ভাবিনি নিজেদের বৃদ্ধ বয়েসের কথাও। জাতীয় পুরস্কার পাই শিক্ষায় নিজের ভূমিকার জন্য। এরপরে কত বড় স্কুল থেকে ডাক এলো। কিন্তু নিত্যানন্দপুরের স্কুলই আমার সব ছিল। আমার নিজের হাতে গড়া সে স্কুল।


অনতিবিলম্বে এলাকার মানীজনেদের স্কুলটার নামডাক হওয়াতে টনক নড়লো। স্কুলকমেটিও তাদের যুক্তি মেনে নিল। কাজেই মানুষগড়ার পুজ্যভূমির ব্যবসাক্ষেত্র হয়ে উঠতে সময় লাগলো না। আমাকে না তাড়ালে ওদের এইকাজে অসুবিধা হত। শেষে যেদিন আমাকে অসম্মানিত করার পথ ধরল সেদিন নীরবে স্কুল ছেড়ে বেড়িয়ে এসেছিলাম। নিজের প্রাপ্য টাকা নিতেও ফিরে যাইনি সেখানে আর। আমি জানতাম এই নিয়ে আমার পূর্বতন ছাত্রছাত্রীরা আন্দলন গড়ে তুলতো অবশ্যই। তবুও যেভাবে মরীয়া চেষ্টা করেছিল ওরা আমাকে তাড়াতে তিক্ততা বসতই চাকরী ছেড়ে দিলাম। আর একবস্ত্রে নিত্যানন্দপুর ত্যাগ করলাম সুধার হাত ধরে। শিক্ষকতা আর করবো না সেই পণ করে।


আমি অনেকক্ষণ চুপ করে থাকায় প্রিন্সিপ্যাল মহাশয়া আবারো ডাকলেন আমায়। “মাস্টারমশাই, আমি খুব দুঃখিত। আপনি বোধহয় আমার জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেছেন। আসলে গভর্নিংবডির মেম্বারদের সাথেই দেখা করতে গিয়েছিলাম। আপনি এত কাছে রয়েছেন জেনে আমি চাইছিলাম আপনি যাতে আমাদের সাথে যুক্ত হোন।”


কি বলছেন ইনি! আমার কি তবে এখনো কিছু কাজ বাকি আছে। এখনো ফুরায়নি সবটা? “মাস্টারমশাই। আমরা স্কুলের পক্ষ থেকে চাইছি যদি আপনি স্কুল উপদেষ্টা কমেটিতে থাকেন। আমরা আপনার স্পেশাল ক্লাসের ব্যবস্থাও করতে চাই স্কুলে”। বিনীত কন্ঠে বললেন মহাশয়া।


আমার জীবনবোধে নাড়া পড়েছিল তার আবেদনে। যে শহুরে সভ্যতাকে মেকি ভেবে চিরকাল অবজ্ঞা করে চলেছি, তফাতে থাকতে চেয়েছি, সবার অলক্ষ্যে নিজের কাজ করে যেতে চেয়েছি, সেই আপাত মেকি সভ্যতাও আবার বোধদয় ঘটালো আমার। নাহ্! সব তাহলে শেষ হয়ে যায় না। কিছু থেকেই যায় আবার ফিরে আসার।


প্রিন্সিপ্যাল মহাশয়া এবার আমাকে আরো আকুল আর্জি জানালেন। “আমরা জানি আপনার সাথে নিত্যানন্দপুরে কি হয়েছিল মাস্টারমশাই। কিন্তু তবুও আপনি আমাদের উপর ভরসা করুন। আমরা আপনার কাজে কোন বাঁধা দেব না। গভর্নিংবডির মেম্বাররাও স্কুলে আসছেন। তারা আজই আপনার সাথে বসতে চান। আপনি আর না করবেন না।”


একথা বলেই তিনি এক অপরূপ কাজ করলেন। দূরে কোনও পথচারীর দৃষ্টিতে সে দৃশ্য হয়তো বিস্ময় জাগাবে। মাটিতে উবু হয়ে বসে নামী ইংলিশ মিডিয়ামের প্রিন্সিপ্যাল মাস্টারমশায়ের পাদুখানে হাত রাখলেন। আর গ্রাম্য এক হতভাগ্য বৃদ্ধ মাস্টার তখন অশ্রুচোখে কিংকর্তব্যবিমূঢ়ভাবে নিজের হাত দুখানি জোড় করে বুকে চেপে ধরেছেন।


মাস্টারমশাইকে যত্ন করে নিজের গাড়িতে বসিয়ে প্রিন্সিপ্যাল এবার স্কুলের দিকে গাড়ি ফেরাতে নির্দেশ দিলেন। হঠাৎ মাস্টারমশায়ের মনে পড়লো আগের দিন দিব্যরূপকে একটা অঙ্ক শেষ পর্যন্ত দেখিয়ে উঠতে পারেননি গোলেমালে। আজকে যদি সুযোগ পান তো সেটা একবার দেখিয়ে দেবেন। চিন্তাটা মাথায় আসতেই মাস্টারমশাই গাড়ির জানলা দিয়ে গলা বাড়ালেন। এটা দেখার জন্য স্কুলে পৌঁছাতে আর কতটা পথ বাকী!

43 views0 comments

Recent Posts

See All
  • download (8)

Copyright © bunonindia. All rights reserved.