Li-Fi-কী? Li-Fi-কীভাবে-কাজ-করে?

Li-Fi এর পুরো নাম হলো লাইট ফিডালিটি (Light-Fidelity)। প্রফেসর হ্যারল্ড হস (Professor Harald Haas) এই প্রযুক্তি প্রথম আবিষ্কার করেন । ২০১১ সালে তিনি Li-Fi-এর মূলমন্ত্র সর্বসমক্ষে প্রথম প্রকাশ করেন। তার গবেষণার মূল বিষয় ছিল, লাইট এর সাহায্যে কিভাবে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়? প্রায় ৭ মাস আগে তিনি এই প্রযুক্তিটি পরীক্ষা করেন এবং পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায় Wi-Fi এর তুলনায় Li-Fi অনেক বেশি দ্রুতগামী।


এই প্রযুক্তি মূলত VLC বা ভিসিবল লাইট কমনিকেশন (Visible Light Communication) ধারনার উপর কাজ করে। VLC কি? আপনি যদি একটি LED বাল্বকে কন্সট্যান্ট ইনপুট পাওয়ার দেন তবে সেটির আউটপুটও কন্সট্যান্ট দেখতে পাবেন। কিন্তু আপনি যদি ইনপুট পাওয়ার কিছু পরিবর্তন করে দেন তখন আউটপুটেও পরিবর্তন দেখতে পাবেন। ইনপুট দ্রুত পরিবর্তন করা হলে আউটপুটও দ্রুত পরিবর্তিত হবে। এই ধারনার মাধ্যম্যেই এক ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হয়।


উদাহরণ হিসেবে একটি টিভি এর রিমোট এর কথা ভাবুন। টিভি রিমোট এর সামনে একটি ইনফ্রারেড (Infrared) বাল্ব লাগানো থাকে এবং যখন আপনি রিমোট এর নির্দিষ্ট কোন বাটন চাপেন তখন ওই বাল্বে নিদিষ্ট একটি আলো জলে ওঠে। এইবার আপনার টিভিতে থাকা সেন্সর সেই আলোটিকে অনুধাবন করে তার কাজ সম্পূর্ণ করে।


মনে করুন টিভি চানেল পরিবর্তনের জন্য রিমোটের বাল্বটি দুই বার বিপ শব্দ করে, তাহলে যখন আপনি রিমোটে চানেল পরিবর্তন করার জন্য চাপ দেবেন তখন বাল্বটি দুইবার বিপ বিপ করব এবং টিভিতে থাকা সেন্সর তা গ্রহন করবে। আপনার টিভিতে আগে থেকেই প্রোগ্রাম করা আছে যে দুইবার বিপ শব্দ গ্রহন করার পর চ্যানেল পরিবর্তন করতে হবে।


Li-Fi এর সুবিধা:-


Wi-Fi এর থেকে দ্রুত গতি।

১০০০০ গুণ রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ।

আরও বেশি সুরক্ষিত কারণ পরিষ্কার দৃষ্টি লাইন ছাড়া বাধা দেওয়া যায় না।

Piggybacking প্রতিরোধ করে।

প্রতিবেশী নেটওয়ার্কের হস্তক্ষেপে বাঁধা দেয়।

অবিচ্ছিন্ন রেডিওর ফ্রিকোয়েন্সি ।

সংবেদনশীল ইলেকট্রনিক্স তৈরি করে না ফলে এটি হাসপাতাল এবং বিমানের মতো পরিবেশে ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত।


Li-Fi প্রযুক্তির মূল মন্ত্রটি অনেকটা এই রকমই। কিন্তু টিভি রিমোটের মত লাইফাইয়ে একটি মাত্র আলোর উৎস না থেকে অনেক গুলো উৎস থাকে যাতে আপনি অনেক দ্রুত ডাটা আদান প্রদান করতে পারেন। VLC(Visible Light Communication) হলো এই প্রযুক্তি পরিচালনা করার সাধারন মাধ্যম।


Li-Fi প্রযুক্তিতে এমনটা হবে না যে আপনি এলইডি বাল্বের আলো থেকে সরে যাবেন আর আপনার ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাবে। আপনি যখনই একটি উৎস থকে সরে গিয়ে অন্য আলোর উৎসের কাছে যাবেন এই প্রযুক্তি স্বয়ংক্রিয় ভাবে আপনার সাথে সংযুক্ত হয়ে যাবে।


আমরা অফিস কিংবা বাড়িতে যে সাধারন বাল্ব ব্যবহার করে থাকি সেটিকে প্রথমে এলইডি বাল্বে পরিবর্তন করে এবং এক প্রকার ড্রাইভার লাগিয়ে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবেন। আলো আসার সাথে সাথে আপনি অনেক দ্রুতগতিতে ইন্টারনেটও ব্যবহার করতে পারবেন।

45 views0 comments
  • download (8)

Copyright © KolkataPanda.com. All rights reserved.